আবু দাউদ শরীফ, ৩য় খন্ড, রোযার অধ্যায় |


যতদূর দৃষ্টি, অজানা, অসীম, লক্ষ্য একটাই, এগিয়ে যেতে হবে.... ছোট এ জীবনে যতদূর পারা যায় ....
সময় : July 16, 2012 | ধারা : ।। সুনানে আবু দাউদ [৩য় খন্ড]
[ 1,429 বার পঠিত ]

রোযার অধ্যায়

১৯৪.অনুচ্ছেদ:সিয়াম ফরয হওয়া।

২৩০৭। আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন শাবওয়া……ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত । (আলাহর বাণী) : (অর্থ) “হে ঈমানদারগন! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন তা তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ফরয করা হয়েছিল।“ নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে লোকেরা যখন এশার নামায আদায় করতো, তখন তাদের জন্য পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হারাম হয়ে যেত এবং তারা পরবর্তী রাত পর্যন্ত রোযা রাখত । তখন এক ব্যক্তি নিজের নফসের প্রতি খিয়ানত করে স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে । অথচ সে এশার নামায আদায় করেছিল, কিন্তু ইফতার করেনি, (অর্থাত সন্ধার পর কোন খাদ্য গ্রহন করেনি) । এরপর আল্লাহ তা’আলা এ নির্দেশ অন্যদের জন্য সহজ, স্বেচ্ছাধীন ও উপকারী করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহুন করেন । আল্লাহ তা’আলা বলেন : (অর্থ) “আল্লাহ জানেন, তোমরা তোমাদের নফসের প্রতি (পানাহার ও সহবাসের দ্বারা) খিয়ানত করেছিলে।“ আর এ নির্দেশ দ্বারা আল্লাহু মানূষের উপকার করেছেন এবং এটা তাদের জন্য সহজ ও সেচ্ছাধীন করেছেন।

২৩০৮। নাসর ইবন আলী……আল-বারাআ (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, লোকেরা যখন রোযা রাখত তখন যদি কেউ না খেয়ে ঘূমিয়ে পড়ত তবে তাকে পরবর্তী রাত পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হতো । একদা সূরামা ইবন কায়স সারাদিন রোযা রাখার পর রাতে তার স্ত্রীর নিকট আগমন করে তাকে বলে, তোমার নিকট কোন খাদ্য আছে কি ? সে বলে, না । তবে আমি যাই, তোমার জন্য খাদ্যের জোগাড় করে আনি । সে (স্ত্রী) যাওয়ার পর, সে (স্বামী) গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে । এরপর খাদ্য নিয়ে ফেরার পর তাকে নিদ্রিত দেখে সে বলে, তোমার জন্য বঞ্চিত থাকা ব্যতীত আর কিছুই নেই । পরের দিন সে যখন তার যমীনে কর্মরত ছিল, তখন দ্বিপ্রহর হয়ে পড়ে । এরপর নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট যখন তা উল্লেখ করা হয়, তখন এ আয়াত নাযিল হয় : (অর্থ) “তোমাদের জন্য রামাযানের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস হালাল করা হল —- (হতে) সকাল পর্যন্ত” পূর্ণ আয়াত ।

১৯৫.অনূচ্ছেদ: যারা রোযার সামর্থ্য রাখে অথচ রোযা রাখে না তারা ফিদয়া দিবে” আল্লাহ তা’আলার এ বাণী মানসুখ (রহিত) হওয়া

২৩০৯। কুতায়বা ইবন সাঈদ….. সালামা ইবন আল আকওয়া (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয়: (অর্থ) “যারা সামর্থবান (অথচ রোযা রাখে না বা রোযা রাখার ক্ষমতা রাখে না) তারা মিসকীনদের ফিদয়া দিবে।‍” আমাদের মধ্যে যারা রোযা না রেখে ফিদয়া দেওয়ার ইরাদা করতো।এরপর পরবতী আয়াত নাযিল হওয়ায় পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুম মানসুখ (রহিত) হয়ে যায়।

২৩১০। আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ…… ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, যারা সামর্থবান, তারা মিসকীনদের ফিদয়া দিবে।এরপর তাদের মধ্যে যে মিসকীনদের ফিদয়া দিতে ইছা করতো, সে তা প্রদান করতো এবং সে নিজের রোযা পূর্ন করতো। এরপর আল্লাহ বলেন:যে ব্যক্তি অধিক দান খয়রাত করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা রোযা রাখ, তবে তা অধিক উত্তম। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন: যে ব্যক্তি রামাযান মাসে উপনীত হয়, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে ।আর যে রোগগ্রস্ত হবে বা সফরে থাকবে সে তা অন্য দিনে গননা করবে, অর্থাত রোযা আদায় করবে।

১৯৬.অনূচ্ছেদ:বৃদ্ধ ও গর্ভবতীর জন্য রোযা না রেখে ফিদয়া দেবার ব্যাপারে নির্দেশ বহাল রয়েছে বলে যারা মত পোষন করেন

২৩১১। মুসা ইবন ইসমাঈল……ইকরামা (র) বর্ণনা করেছেন যে, ইবন আব্বাস (রা) বলেছেন, এ (ঐচ্ছিক ব্যাপারের) নির্দেশ কেবল দুগ্ধদানকারিণী ও গর্ভবতীদের জন্য বহাল রয়েছে।

২৩১২। ইবন আল মূসান্না……ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণী: (অর্থ) যারা সামর্থবান তারা মিসকীনদের ফিদয়া প্রদান করবে।তিনি বলেন, এ আয়াতটি অতি বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা লোকের জন্য ঐচ্ছিক ব্যবস্থা স্বরুপ। যদি তারা রোযা রাখতে সমর্থ হয়, তবে রোযা রাখবে, অন্যথায় প্রত্যহ একজন মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াবে। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারীণী স্ত্রীলোকগন যদি সন্তানের ক্ষতির আশংকা বোধ করে, তবে তাদের জন্যও এ নির্দেশ বহাল রয়েছে। ইমাম আবুদাঊদ (র) বলেন, যদি তারা তাদের সন্তানের ব্যাপারে শংকিত হয়, তবে তারা রোযা না রেখে (মিসকীনকে) খাদ্য খাওয়াতে পারে।

১৯৭।অনুচ্ছেদ:মাস উনত্রিশ দিনেও হয়

২৩১৩। সুলায়মান ইবন হারব…… ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলূলাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আমরা উম্মী জাতির অর্ন্তভুক্ত। আমরা লিখতে জানি না এবং মাসের হিসাবও করতে পারি না। এরপর তিনি এরুপ, এরুপ ও এরুপ বলে (তিনবার) নিজের (দশ) অংগুলি প্রসারিত করেন। রাবী সুলায়মান তৃতীয়বারে তার একটি আঙুল সংকুচিত করেন, অর্থাৎ রোযার মাস উনত্রিশ বা তিরিশ দিনে হয় (এর প্রতি ইশারা করেন)।

২৩১৪ । সুলায়মান ইবন দাঊদ……ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুলাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : রোযার মাস উনত্রিশ দিনেও হয় । কাজেই তোমরা চাদ না দেখে রোযা রাখবে না এবং চাদ (শাওয়ালের) না দেখে ইফতারও করবে না। আর তোমাদের আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে তোমরা ত্রিশ রোযা পূর্ণ করবে। রাবী বলেন, এরপর ইবন উমার (রা) যখন শা’বানের উনত্রিশ তারিখ হতো,তখন তিনি রামাযানের চাদ অন্বেষণ করতেন। যদি তিনি তা দেখতে পেতেন তবে তিনি রোযা রাখতেন। আর যদি তিনি তা মেঘের প্রতিবন্ধকতা বা ধূলিচ্ছন্নতা না থাকা অবস্হায় খোলা আকাশে চাদ দেখতে না পেতেন, তবে তিনি পরদিন সকালে রোযা না রেখে খানা খেতেন । আর মেঘাচ্ছন্নতার বা অন্য কোন কারনে, যদি তিনি চাদ (রামাযানের) দেখতে সক্ষম না হতেন তবে পরদিন রোযা রাখতেন। রাবী বলেন, ইবন উমার (রা) লোকদের সাথে ইফতার করতেন, আর তিনি একে (রামাযানের) রোযা হিসাবে গণনা করতেন না,(বরং তা হতো তার নফল রোযা)।

২৩১৫ । হ্নমাইদ ইবন মাসআদা……আইউব বলেন, উমার ইবন আবাদুল আযীয (র) বসরার অধিবাসীদের নিকট এ মর্মে পত্র লিখেন যে, ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর হাদীসটি আমাদের নিকট পৌছেছে। তবে তিনি (উমার ইবন আবদুল আযীয) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আর গণনার জন্য উত্তম পন্থা হল, আমরা শাবানের নতুন চাদকে অমুক বা অমুক তারিখে দেখি, কাজেই রোযা ইনশাআল্লাহ অমুক তারিখে হবে তা বলতে পারি। অবশ্য যদি উনত্রিশে শাঝনের পর রামাযানের চাদ দেখা যায় তবে (ত্রিশের জন্য অপেক্ষা না করে) রোযা রাখতে হবে ।

২৩১৬ । আহমাদ ইবন মানী……ইবন মাসঊদ (রা) হতে বণিঁত । তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে পূর্ন ত্রিশদিন রোযা রাখার চাইতে উনত্রিশ দিন রোযা বেশি রেখেছি
২৩১৭ । মুসাদ্দাদ……আবদুর রহমান ইবন আবু বাকরা তাঁর পিতা হতে, তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ননা করেছেন। তিনি বলেন: দু-ঈদের মাস সাধারণত (ত্রিশ দিনের) কম হয় না এবং তা হল রামাযান ও যিলহাজ্জ মাস। (অর্থাৎ একই বছর উভয় মাস ২৯ দিনের হয় না । বরং একটি ৩০ দিনের ও অপরটি ২৯ দিনের হতে পারে)।

১৯৮। অনুচ্ছেদ : নতুন চাদ দেখতে লোকেরা ভুল করলে

২৩১৮। মূহাম্মদ ইবন উবায়দ……আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নতুন চাদ দর্শনে লোকজনের ভুলত্রুটির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি ইরশাদ করেন : যেদিন তোমরা সকলে রোযা রাখবে না সেদিন হল ঈদূল ফিতর আর কূরবানীর ঈদ সে দিন যেদিন তোমরা সকলে কুরবানী করবে । আর আরাফাত ময়দানের সর্বত্রই অবস্হানের জায়গা । মিনার পূর্ণ অংশই কুরবানীর স্হান। আর মক্কার প্রতিটি রাস্তাই কুরবানীর স্হান এবং পুরো মুযদালিফাই অবস্হানস্হল। (অর্থাৎ আরাফাতের যে কোন স্থানে কিয়াম করা যায় আর মুযদালিফার যে কোন স্হানে রাত্রিযাপন করা যায় এবং মিনা ও মক্কার রাজপথে যে কোন স্হানে কুরবানী করা যায়।)

১৯৯ অনূচ্ছেদ : মেঘাচ্ছন্নতার জন্য নতূন চাদ না দেখারু কারনে, রোযার মাস যদি গোপন থাকে

২৩১৯ । আহমাদ ইবূন হাম্বল……আবদুলাহ ইবন আবু কায়স বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাবান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসের দিন উজাভাবে মুখস্থ রাখতেন না । এরপর রামাযানের চাদ দেখে রোযা শুরু করতেন । যদি (উনত্রিশে শাবান) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকত তবে তিনি ত্রিশ দিন পূর্ণ করতেন। এরপর রোযা রাখতেন ।

২৩২০ । মুহাম্মদ ইবন আল সাব্বাহ…… হুযায়ফা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: রামাযানের চাদ দেখা না গেলে অথবা শা’বানের ত্রিশ দিন পূর্ন না হলে তোমরা রোযাকে এগিয়ে আনবে না। রোযার চাদ দেখা গেলে অথবা শাবানের (ত্রিশ) দিন পূর্ণ হলেই রোযা রাখা আরম্ভ করবে এবং যে পর্যন্ত শাওয়ালের চাদ দেখা না যায় অথবা রোযার (ত্রিশ) দিন পূর্ণ না হয় সে পর্যন্ত রোযা রেখে যাবে। অর্থাত চাদ দেখে রোযা শুরু করবে এবং চাদ দেখেই রোযা শেষ করবে ।

২০০। অনুচ্ছেদ : যদি রামাযানের উনত্রিশ তারিখে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং শাওয়ালের চাদ দেখা না যায় তবে তোমরা ত্রিশ রোযা পূর্ন করবে

২৩২১ ।আল হাসান ইবন আলী …… ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, রাসুলূলাহ ইরশাদ করেছেন : তোমরা রামাযানের মাস আগমনের এক বা দু-দিন পূর্বে রোযা রাখবে না, অবশ্য যদি কেউ এরুপ রোজা রাখায় অভ্যস্ত থাকে, তবে স্বতন্ত্র ব্যাপার। আর রামাযানের চাদ দেখার পূর্বে তোমরা রোষা রাখবে না এবং শাওয়ালের চাদ দেখার পূর্বপর্যন্ত রামাযানের রোযা রাখবে। আর যদি এর মধ্যে মেঘাচ্ছন্নতা থাকে, তবে ত্রিশ দিন পূর্ন করবে এবং পরে ইফতার করবে। আর সাধারণত চন্দ্রমাস হয় উনত্রিশ দিনে।

২০১। অনুচ্ছেদ : রামাযান আগমনের পূর্বে রোযা রাখা

২৩২২। মুসা ইবন ইসমাঈল …… ইমরান ইবন হসাইন (রা) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি শা’বানের শেষদিকে রোযা রাখ? সে বলে, না। তিনি বললেন : যখন তুমি রামাযানের রোযা শেষ করবে, তখন একদিন বা,(রাবী আহমাদ বলেন) দু-দিন রোযা রাখবে ।

২৩২৩ ।ইবরাহীম ইবন আল-আলা যুবায়দী …… আবু আল-আযহার আল-মুগীরা ইবন ফারওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মু’আবিয়া (রা) লোকদের সন্মুখে খুতবা দেবার জন্য এমন একঢি গৃহে দন্ডায়মান হন যেখানে হিমসের বৈরাগীরা বসবাস করতো । এরপর তিনি বলেন, হে জনগণ! আমরা অমুক দিন চাদ দেখেছি। কাজেই আমরা রোযা রাখতে যাচ্ছি। আর যে ব্যক্তি এরুপ করতে ভালবাসে, সে যেন তা করে। রাবী বলেন, তখন তার সন্মুখে মালিক ইবন হুবায়রা আল-সাবায়ী দন্ডায়মান হয়ে বলেন, হে মু’আবিয়া! তুমি তা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শ্রবন করেছ, না এটা তোমার নিজের অভিমত ? তিনি বলেন! আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : তোমরা (শাবান) মাসে রোযা রাখবে এবং বিশেষ করে এর শেষের দিকে।

২৩২৪। সুলায়মান ইবন আবদুর রহমান দিমাশকী বর্ণনা করেন যে, ওয়ালীদ বলেন, আমি আবু আমর আল-আওযায়ী হতে শুনেছি -হাদীসে বর্নিত ??? অর্থ ??
২৩২৫। আহমাদ ইবন আবদুল ওয়াহেদ সুত্রে বর্নিত আবু মাসহার বলেন, সাঈদ অর্থাত আবদুর আযীয বলতেন, ??? শব্দের অর্থ প্রথমাংশ। (অর্থাত শা’বানের প্রথমাংশে রোযা রাখার তাগিদ দিয়েছেন) ।

২০২ অনুচ্ছেদ : যদি কোনো শহরে অন্যান্য শহরের এক রাত পূর্বে চাদ দেখা যায়

২৩২৬। মুসা ইবন ইসমাঈল……কুরায়ব হতে বর্নিত । তিনি বলেন, উম্মে ফাযল বিনত আল-হারিস তাকে মু’আবিয়ার নিকট শাম (সিরিয়া) দেশে প্রেরণ করেন।তিনি বলেন, আমি সিরিয়া পৌছে,তার প্রয়োজন পুর্ণ করি। আমি সিরিয়া থাকাবস্থায় রামাযানের চাঁদ ওঠে এবং আমরা উহা জুমু’আবূ রাত্রিত্রে অবলোকন করি।এরপর আমি রামাযানের শেষের দিকে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি। ইবন আব্বাস (রা) আমাকে সফর সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করেন এবং বিশেষ করে চাদ দেখা সস্পর্কে বলেন, তোমরা রামাযানের চাঁদ কখন দেখেছিলে? আমি বলি, আমি তা জুমু’আর রাতে দেখেছি। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি নিজেও কি তা দেখেছিলে। আমি বলি,হ্যা এবং অন্যান্য লোকেরাও দেখে এবং তারা রোযা রাখে, এমনকি মু’আবিয়াও রোযা রাখেন। তিনি বলেন, আমরা তো শনিবারে দেখেছি। কাজেই আমরা ত্রিশ পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত রোযা রাখব অথবা শাওয়ালের চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রেখে যাবো। আমি জিজ্ঞাসা করি, মুআবিয়ার দর্শন ও রোযা রাখা কি এ ব্যাপারে যথেষ্ট নয়? তিনি বলেন, না। আমাদেরকে রাসুলূলাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরুপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

২০৩ অনুচ্ছেদ : সন্দেহজনক দিবসে রোযা রাখা মাকরুহ

২৩২৭ । মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ……সিলা (র) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, একদা আমরা সন্দেহজনক দিবসে আম্মার (রা)-এর নিকট ছিলাম।সেখানে একঢি ভুনা বকরী পেশ করা হলে সেখানকার কিছু লোক (রোযা থাকার কারনে) তা খাওয়া হতে বিরত থাকে। আম্মার (রা) বলেন, আজ (এ সন্দেহজনক দিবসে) যে রোযা রেখেছে, সে তো আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাফরমানী করেছে।

২০৪ অনুচ্ছেদ : যারা শা’বানের রোযাকে রামাযানের রোযার সাথে মিশ্রিত করেন

 

২৩২৮ । মুসলিম ইবন ইবরাহীম…..আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমরা রামাযান আগমনের পূর্বে তার রোযাকে একদিন বা দু’দিন এগিয়ে নিও না। অবশ্য যদি কেউ ঐ দিন (শা’বানের শেষ তারিখে) রোযা রাখতে অভ্যস্ত থাকে, তবে সে যেন ঐ রোযা রাখে।
২৩২৯ । আহমাদ ইবন হাম্বল……উম্মে সালামা (রা) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন বছর-ই রামাযানের নিকটবতী শাবান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে পূর্ন মাস রোযা রাখতেন না।

২০৫ । অনুচ্ছেদ : শাবানের শেষার্ধে রোযা রাখা মাকরুহ

২৩৩০ । কুতায়বা ইবন সাঈদ, আবদুল আযীয ইবন মুহাম্মদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আববাদ ইবন কাসীর মদীনা শরীফে গিয়ে ‘আলা ইবন আবদুর রহমানের মজলিসে পৌছলেন এবং তার হাত ধরে তাকে দাড় করিয়ে বললেন, এই ব্যক্তি তার পিতা হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা) হতে হাদীস বর্ণনা করেন যে, (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : শাবানের অর্ধেক যখন অতিবাহিত হয়, তখন তোমরা রোযা রাখবে না।তখন ‘আলা বলেন, ইয়া আল্লাহ! আমার পিতা (আবদুর রহমান) আবু হুরায়রা (রা) হতে এবং তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এরুপ বর্ণনা করেছেন।

 

২০৬, অনুচ্ছেদ : শাওয়ালের চাদ দর্শনে দু’ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রদান

২৩৩১ । মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহীম……হুসায়ন ইবন আল-হারিস আল-জাদলী খেকে বর্ণিত যে, একদা মক্কার আমীর খুতবা প্রদানের সময় বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন যে, আমরা যেন শাওয়ালের চাদ দেখাকে ইবাদত হিসাবে গুরুত্ব দেই । আর আমরা স্বচক্ষে যদি তা না দেখি তবে দুজন ন্যায়পরায়ন লোক এ ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করলে-তখন আমরা যেন তাদের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করি । তখন প্রশ্নকারী (আবু মালিক) আল-হুসায়ন ইবন আল-হারিসকে মক্কার আমীরের ব্যাপারে জিজাসা করেন যে, তার নাম কী? তিনি বলেন, আমি জানি না । কিছুক্ষণ পরে আবার আমার সাথে সাক্ষাত করে তিনি বলেন, তহার নাম আল-হারিস ইবন হাতিব, যিনি মুহাম্মাদ ইবন হাতিরের ভাই । এরপর আমীর বলেন, তোমাদের মধ্যে আমার চাইতে যিনি অধিক জ্ঞানী, আল্লাহ ও তার রাসুল সম্পর্কে তিনি এ বিষয়ে রাসুল থেকে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন? এরপর তিনি এক ব্যক্তির গ্রতি ইশারা করেন । হুসায়ন বলেন, আমি আমার পার্শ্ববতী একজন শায়খকে জিজ্ঞাসা করি, এই ব্যক্তি কে -যার প্রতি আমীর ইশারা করলেন? তিনি বলেন, ইনি আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) আর তিনি সত্য বলেন যে, তার (আমীরের ) চাইতে তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু উমার) আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন । তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবন উমার) বলেন, স: আমাদেরকে এরুপ করতে নির্দেশ প্রদান করেন । (অর্থাৎ নতুন চাদ দেখার সাক্ষ্য প্রমান গ্রহনকে শরী’আতের বিধান হিসাবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন)।

২০৬, অনুচ্ছেদ : শাওয়ালের চাদ দর্শনে দু’ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রদান

২৩৩১ । মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহীম……হুসায়ন ইবন আল-হারিস আল-জাদলী খেকে বর্ণিত যে, একদা মক্কার আমীর খুতবা প্রদানের সময় বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন যে, আমরা যেন শাওয়ালের চাদ দেখাকে ইবাদত হিসাবে গুরুত্ব দেই । আর আমরা স্বচক্ষে যদি তা না দেথি তবে দুজন ন্যায়পরায়ন লোক এ ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করলে-তখন আমরা যেন তাদের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করি। তখন প্রশ্নকারী (আবু মালিক) আল-হুসায়ন ইবন আল-হারিসকে মক্কার আমীরের ব্যাপারে জিজাসা করেন যে, তার নাম কী? তিনি বলেন, আমি জানি না। কিছুক্ষণ পরে আবার আমার সাথে সাক্ষাত করে তিনি বলেন, তার নাম আল-হারিস ইবন হাতিব, যিনি মুহাম্মাদ ইবন হাতিরের ভাই।এরপর আমীর বলেন, তোমাদের মধ্যে আমার চাইতে যিনি অধিক জ্ঞানী, আল্লাহ ও তার রাসুল সম্পর্কে তিনি এ বিষয়ে রাসুল থেকে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন? এরপর তিনি এক ব্যক্তির গ্রতি ইশারা করেন । হুসায়ন বলেন, আমি আমার পার্শ্ববতী একজন শায়খকে জিজ্ঞাসা করি, এই ব্যক্তি কে -যার প্রতি আমীর ইশারা করলেন? তিনি বলেন, ইনি আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) আর তিনি সত্য বলেন যে, তার (আমীরের ) চাইতে তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু উমার) আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন । তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবন উমার) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে এরুপ করতে নির্দেশ প্রদান করেন । (অর্থাৎ নতুন চাদ দেখার সাক্ষ্য প্রমান গ্রহনকে শরী‍’আতের বিধান হিসাবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন)।
২৩৩২। মুসাদ্দাদ ও খালফ ইবন হিশাম আল-মুকরী…… রিবঈ ইবন হিরাশ নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ননা করেছেন, তিনি বলেন, একদা লোকেরা রামাযানের শেষে শাওয়ালের চাদ সম্পর্কে মতভেদ করেন। তখন দু-জন বেদুঈন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট উপস্হিত হয়ে আল্লাহর শপথ করে সাক্ষ্য প্রদান করেন যে,গত সন্ধ্যায় তারা শাওয়ালের চাদ দেখেছে। তখন রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদেরকে রোযা ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। রাবী খালফ তার হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, “আর তারা যেন আগামী দিন ঈদের নামায আদায়ের জন্য ঈদগাহে গমন করে।

২০৭- অনুচ্ছেদ : রামাযানের চাদ দেখার ব্যাপারে এক ব্যক্তির সাক্ষ্য

২৩৩৩ । মুহাম্মাদ ইবন বাক্কার ইবন রাইয়ান…… ইবন আববাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট উপস্হিত হয়ে বলে, আমি চাদ দেখেছি। রাবী হাসান তার হাদীসে বলেন, অর্থাৎ রামাযানের চাদ। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি এরুপ সাক্ষ্য প্রদান কর ষে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই? সে বলে, হ্যা। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি এরুপ সাক্ষ্য প্রদান কর যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল? সে বলে, হ্যা। তিনি বিলালকে বলেন, হে বিলাল! তূমি লোকদের জানিয়ে দাও, যেন তারা আগামী দিন রোযা রাখে ।[১]
১. রামাযানের চাদ দেখার ব্যাপারে, আকাশ পরিস্কার থাকলে একজনের সাক্ষ্য গ্রহনীয় নয়। অন্তত দু’জন বিশ্বাসী, ন্যায়পরায়ন লোকের চাদ দেখা প্রয়োজন।



২৩৩৪। মূসা ইবন ইসমাঈল…… ইকরামা (র) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহাবীগণ রামাযানের চাদ দেখার ব্যাপারে সন্দিহান হন। তারা তারাবীহর নামায আদায় না করার এবং (পরদিন) রোযা না রাখার ইরাদা করেন। এমতাবস্হায় হাররা নামক স্হান হতে জনৈক বেদুঈন আগমন করে সাক্ষ্য দেয় যে,সে চাদ দেখেছে। তাকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খিদমতে আনয়ন করা হয়। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল? সে বলে, হা এবং আরও সাক্ষ্য দেয় যে, সে নুতন চাদ দেখেছে । তিনি বিলালকে নির্দেশ দেন, সে যেন লোকদের জানিয়ে দেয়, যাতে তারা তারাবীহ নামায আদায় করে এবং পরদিন রোযা রাখে।
২৩৩৫। মাহমূদ ইবন খালিদ ও আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান সমরকন্দী…… ইবন উমার (সা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকেরা রামাযানের চাদ অন্বেষন করে, কিন্তু দেখতে পায়নি। পরে এক ব্যক্তি রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এরুপ খবর দেয় যে, সে চাদ দেখেছে। এরপর তিনি রোযা রাখেন এবং লোকদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন।

২০৮ অনুচ্ছেদ : সাহরী খাওয়ার গুরুত্ব

 

২৩৩৬ । মুসাদ্দাদ……আমর ইবনুল ‘আস (রা) হতে বর্ণিত ।তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আমাদের রোযার মধ্যে এবং আহলে কিতাবদের[১] রোযার মধ্যে পার্থক্য হল ছেহরী  খাওয়া।

১. ঐশী গ্রন্থের দাবিদার যেমন-ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান এরা রোযা রাখার জন্য সাহরী খায় না ইয়াহুদীগন আসমানী কিতাব তাওরাতের আর খ্রিষ্টানগন ইন্জিল-এর অনুসারী বলে তাদেরকে আহলে  কিতাব বলা হয়

২০৯অনূচ্ছেদ : সাহরীকে যারা নাশতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন

২৩৩৭। আমর ইবন মুহামাদ……আল-ইরবায ইবন সারিয়া (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, একদা রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে রামাযান মাসে সাহরীর সময় আহবান করেন, এবং বলেন, কল্যাণময় সকালের খাবারের দিকে (সাহরীর দিকে) সত্বর আগমন করো ।

২১০অনুচ্ছেদ : সাহরীর সময়

২৩৩৮। মুসাদ্দাদ……আবদুল্লাহ ইবন সাওয়াদা আল-কুশায়রী তার পিতা হতে  বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন, আমি সামুরা ইবন জুনদুব (রা) কে খুতবা দেওয়ার সময় বলতে শুনেছি, রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : বিলালের আযান এবং  পূর্ব আকাশের এরুপ শুভ্র আলো যতক্ষণ না তা পূর্বদিগন্তে প্রসারিত হয়, যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে ।

২৩৩৯। মুসাদ্দাদ…… আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে, কেননা সে আসান দেয় অথবা (রাবীর  সন্দেহ) আহবান করে, যারা তাহাজ্জুদ নামাযে রত থাকে, তাদের ফিরিরে আনার জন্য এবং তোমাদের মধ্যে যারা নিদ্রিত থাকে তাদের জাগাবার জন্য । আর ততক্ষণ ফজর হয় না, যতক্ষণ না এরুপ হয়- এ বলে ইয়াহইয়া তার হাতের তালুকে মুষ্টিবদ্ধ করে প্রসারিত করেন, পরে তার হাতের তালুর অঙ্গুলি প্রসারিত করে দেন।

২৩৪০। মুহাম্মদ ইবন ঈসা……কায়স ইবন তালক (র) তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: তোমরা  খাও এবং পান করো, আর তোমাদেরকে যেন সুবহে কাযিবের উচ্চ লম্বা রেখা (যা পূর্ব হতে পশ্চিমে দৃশ্যমান) সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। আর তোমরা ততক্ষণ পানাহার করো, যতক্ষণ না সুবহে সাদিকের লনা লম্বা আলোকরশ্মি (যা পুর্বাকাশে উত্তর-দক্ষিনে দৃশ্যমান) প্রকাশ পায়।

২৩৪১।মুসাদ্দাদ……আদী ইবন হাতিম (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয় : (অর্থ) “তোমরা ততক্ষন পানাহার কর, যতক্ষন না কালো সুতা হতে সাদা সুতা উজ্জল হয়”। রাবী বলেন, তখন আমি এক টুকরা কালো ও এক টূকরা সাদা সুতা আমার বালিশের নিচে রাখি । এরপর আমি এর প্রতি দৃষ্টিপাত করি, কিন্তু প্রকৃত রহস্য অনুধাবন করতে অক্ষম হই। তখন আমি তা রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রকাশ করলে, তিনি হেসে ওঠেন এবং বলেন, তোমার বালিশ তো বেশ দৈর্ঘ্য প্রস্থধারী, বরং এর (কালো ও সাদা সুতার) রহস্য হলো রাত ও দিনের প্রকাশ । রাবী উসমা বলেন বরং তা রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা ।

২১১। অনুচ্ছেদ : সাহরীর খাবার গ্রহণরত অবস্হায় আযান শুনতে পেলে

২৩৪২ । আবদুল আলা ইবন হাম্মাদ……আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন,  রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ যখন ফজরের আযান শ্রবন করে, আর এ সময় তার হাতে খাদ্যের পাত্র থাকে, সে যেন আযানের কারনে খাদ্য গ্রহন বন্ধ না করে – যতক্ষন না সে তদ্বারা  স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ করে ।

২১২। অনূচ্ছেদ : রোযাদারের ইফতারের সময়

২৩৪৩ । আহমাদ ইবন হাম্বল……আসিম ইবন উমার (রা) তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :  যখন পূর্বাকাশে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে এবং সূর্য পশ্চিমাকাশে অস্তমিত হয়, রাবী  মুসাদ্দাদ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, যখন সূর্য ডুবে যায়, তখন যেন রোযাদার ইফতার করে।

২৩৪৪ । মুসাদ্দাদ……সুলায়মান আল-শায়বানী (র) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রা)-এর নিকট হতে শ্রবন করেছি। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে গমন করি, তখন তিনি রোযাদার ছিলেন। এরপর সুর্য অস্তমিত হলে, তিনি বলেন, হে বিলাল! তুমি অবতরণ কর এবং আমাদের (ইফতারের) জন্য পানির সাথে আটা বা দুধ মিশ্রিত করো। তিনি (বিলাল) বলেন, ইয়া রাসুলূল্লাহ! যদি আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হতাম,(তবে ভাল হতো) তিনি বলেন, তুমি অবতরণ করো এবং আমাদের জন্য পানির সাথে আটা বা দুধ মিশ্রিত করো । তিনি বলেন, ইয়া রাসুলূল্লাহ! আপনার উপর তো এখন দিন বিদ্যমান । তিনি বলেন, তূমি অবতরন করো এবং আমাদের জন্য পানির সাথে আটা বা দুধ  মিশ্রিত করো। তখন তিনি অবতরন করে পানির সাথে আটা বা দুধ মিশ্রিত করেন।  এরপর রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পান করে বলেন, যখন তোমরা রাতকে এদিক হতে আসতে দেখবে, তখন যেন রোযাদার ইফতার করে। এরপর স্বীয় অঙ্গুলি দ্বারা পূর্বাকাশের প্রতি ইশারা করেন ।

২১৩- অনুচ্ছেদ : দ্রুত (সূর্যাস্তের পরপরই) ইফতার করা মুস্তাহাব

২৩৪৫। ওয়াহব ইবন বাকিয়্যা…… আবু হুরায়রা (রা) নবী করীম রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ননা করেন । তিনি বলেছেন : দীন ততদিন বিজয়ী থাকবে, যতদিন লোকেরা জলদী ইফতার করবে । কেননা, ইয়াহুদী ও নাসারারা ইফতার অধিক বিলম্বে করে।

২৩৪৬। মুসাদ্দাদ……আবু আতিয়্যা (র) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি এবং মাসরুক  আয়েশা (রা)-এর নিকট উপস্হিত হয়ে তাকে বলি, হে উম্মুল মূমিনীন! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে দু’ব্যক্তির এক ব্যক্তি তাড়াতাড়ি ইফতার করেন এবং তাড়াতাড়ি মাগরিবের নামায আদায় করেন এবং অপর ব্যক্তি  ইফতার ও নামাজ আদায়ে বিলম্ব করেন। তিনি (আয়েশা) বলেন, তাদের মধ্যে কে তাড়াতাড়ি ইফতার করেন এবং নামাযও (মাগরিবের) তাড়াতাড়ি আদায় করেন? আমরা  বলি, আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ (রা)। তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরুপই করতেন।

২১৪- অনুচ্ছেদ : যা দিয়ে ইফতার করতে হবে

২৩৪৭ । মুসাদ্দাদ……সালমান ইবন আমের (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যখন তোমাদের কেউ রোযা রাখে, তখন সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। আর সে যদি খেজুর না পায়, তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে, কেননা পানি পবিত্র।


মন্তব্য :



2 Responses to “আবু দাউদ শরীফ, ৩য় খন্ড, রোযার অধ্যায়”

  1. Siddiqui on July 19th, 2012 1:40 pm
    well done
  2. mahadi on July 22nd, 2012 8:34 pm
    ahle hadees sothik na ki imam safi na onno r kono?ek lok amake prosno koreche .ahle hadees er onusarira keno 8 rakawat tarabir namaz pore?abar bolche sohih hadees e aysha (r) je hadees bolechen ta chilo tahajjud er namaz.amar onek kichu janar chilo jodi meherbani kore janaten to upokrito hotam.apner ba apnader kono facebook id ba page othoba onno kono contact er maddhom ache kina janale valo hoto.assalamualaikum…..

আপনার মন্তব্য এখানে দিতে পারেন :

Turn on pictures to see the captcha *